এই লেখায় যা থাকছে
গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল ও তৈলাক্ত খাবার, অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপের কারণে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
অনেকেই গ্যাস্ট্রিক হলেই নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ গ্রহণ করেন। এতে সাময়িক আরাম পাওয়া গেলেও সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করা না হলে এটি বারবার ফিরে আসতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সাধারণ কারণ কী?
পাকস্থলীতে স্বাভাবিকভাবেই খাবার হজম করার জন্য অ্যাসিড তৈরি হয়। কোনো কারণে এই অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে অথবা পাকস্থলীর সুরক্ষামূলক আবরণ দুর্বল হলে বুকজ্বালা, পেট ব্যথা, ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
- দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা
- অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া
- ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
- অতিরিক্ত চা, কফি বা কোমল পানীয় গ্রহণ
- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার
- মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুম
- ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুধু পাকস্থলীর রোগ নয়; দৈনন্দিন খাবার, ঘুম এবং মানসিক অবস্থার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন
প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে সব খাবার একইভাবে সমস্যা তৈরি করে না। তবে সাধারণভাবে কিছু খাবার অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- অতিরিক্ত ঝাল মরিচ ও মসলাযুক্ত খাবার।
- পুরি, পরোটা, সিঙ্গারা, সমুচা ও অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবার।
- অতিরিক্ত চা, কফি ও এনার্জি ড্রিংক।
- কোলা জাতীয় কোমল পানীয়।
- গভীর রাতে ভারী খাবার।
- অতিরিক্ত টক খাবার বা আচার।
কোনো নির্দিষ্ট খাবারে সমস্যা বাড়লে সেই খাবারের নাম লিখে রাখুন। একসঙ্গে সব খাবার বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করুন।
গ্যাস্ট্রিক কমাতে উপকারী অভ্যাস
শুধু ওষুধ গ্রহণের পরিবর্তে দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
অল্প অল্প করে খাবার খান
একবারে অতিরিক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে। দিনে তিনবার ভারী খাবারের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে কয়েকবার খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করুন
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকবেন না। সকালের নাশতা বাদ দেওয়া গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়াতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। তবে খাবারের সময় একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান না করে কিছুটা বিরতি দিয়ে পানি গ্রহণ করা ভালো।
খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। হালকা হাঁটাহাঁটি হজমে সহায়তা করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে কমে যেতে পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
- বারবার তীব্র পেট ব্যথা
- বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া
- কালো রঙের পায়খানা হওয়া
- খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া
- দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকা
- ওষুধ খেয়েও সমস্যা না কমা
রোগীর বয়স, রোগের ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধ এবং উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু অনলাইন লেখা পড়ে নিজে থেকে দীর্ঘদিন ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।